মোট দেখেছে : 156
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

সরকারীভাবে হিজরী নববর্ষে বন্ধ ঘোষণা ও পালনের দাবী




মোঃ মোস্তাফা চৌধুরীঃ


দরাবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফে গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে হিজরী নববর্ষ ১৪৪১ এর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে র‌্যালিত্তোর সমাবেশে বক্তারা বলেন মুসলিম হিসেবে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ইসলামী সংস্কৃতি লালন ও পরিচর্যা করা। আমরা সেই কর্তব্য পালন না করে বিজাতীয় সংস্কৃতি কৃষ্টি কালচারকে গ্রহন করতে গিয়ে মুসলিম সমাজ ক্রমান্বয়ে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে এর থেকে উত্তোরনের অন্যন্য একটি একটি পথ নিজস্ব সংস্কৃতিকে লালন ও পরিচর্যা করা। ইসলামী নিয়ম কানুনের মধ্যে কোন অভাব বা শূন্যতা নেই, প্রতিটি বিষয়ের উপর ইসলামী বিধান নিয়ম কানুন রয়েছে। যেমন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত হিজরী সন পালন করা, কিন্তু আমরা মুসলিম সমাজ সেটাকে ভুলে গিয়ে ইংরেজী বা বাংলা নববর্ষ পালন করছি এবং নববর্ষের নামে যুবক যুবতীদের উলঙ্গপনা আজ শুধু চরিত্রকে নয় দেশ ও সমাজকেও ধ্বংসের দ্বারপান্তে নিয়ে যাচ্ছে। তাই হিজরী সন পালনে সরকারী ভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হোক এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারী ভাবে পালনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক। এর মাধ্যমেই বর্তমান প্রজন্মের কাছে হিজরী সনের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে পারলেই অপসংস্কৃতি দূরীভূত হয়ে সঠিক সংস্কৃতি চর্চা হবে। আজ ০১ সেপ্টেম্বর ’১৯ইং বিকাল ২টা হতে নগরীর জালালাবাদ হাশেমী নগরস্থ দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফের মাহফিলখানায় আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রাসূল গাউছিয়া জিলানী কমিটির সহযোগী সংগঠন গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশের হিজরী নববর্ষ ১৪৪১ এর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনা সভা বর্ণাঢ্য ইসলামী সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্যে একথা বলেন। শাহজাদা আলহাজ্ব মাওলানা কাযী মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন হাশেমী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত র‌্যালীপূর্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, প্রধানবক্তা ছিলেন আল্লামা হাশেমী ইসলামী মিশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কাযী মুহাম্মদ আবুল ফোরকান হাশেমী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন গাউছিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক শাহাজাদা মাওলানা কাযী মুহাম্মদ জিয়া উদ্দীন হাশেমী, সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারন সম্পাদক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, কাযী মুহাম্মদ রুকনুজ্জামান, মাওলানা মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন সমরখন্দী, মাওলানা জাহেদুল ইসলাম কাদেরী, মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ছৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মুহাম্মদ এমরান হোসেন, মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন, হাজী মুহাম্মদ ইদ্রিস সওদাগর, মুহাম্মদ আব্দুছ ছাত্তার, মাওলানা ছৈয়দুল হক ছৈয়দ, মুহাম্মদ মোস্তফা, মুহাম্মদ বদিউর রহমান, মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মাওলানা মুহাম্মদ জাবেদ, মুহাম্মদ রাসেল, সীতাকুন্ড উপজেলার সভাপতি শওকত উসমান চৌধুরী, মুহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া, হাজী মুহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ আলমগীর কবির, মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আলম চিশতী, মুহাম্মদ হাশেম, মুহাম্মদ গরিব উল্লাহ, মাওলানা আবু তাহের ছিদ্দিকী, মাওলানা নূর হোছাইন, তাজ উদ্দীন টিপু, মুহাম্মদ আলভী, নুর মুহাম্মদ সওদাগর, আনোয়ারা উপজেলা সভাপতি মাওলানা মনির আহমদ আনোয়ারী, ওয়াহিদুল আলম, মাষ্টার দিদার প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন বাংলা নববর্ষ ও ইংরেজীকে নববর্ষকে স্বাগত জানানোর নামে সংস্কৃতির কথা বলে উলঙ্গপনা ও বেহাইয়াপনা বন্ধের দাবিতে ইসলামী সংস্কৃতি লালনে এবং মুসলিম সমাজে ইসলামী সংস্কৃতি পালনে উদ্ভদ্ধ করেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমেনিন, খলিফাতুল মুসলেমীন হযরত ফারুকে আজম রাদ্বি. প্রবর্তিত হিজরী সনের অনুসরণ এবং হিজরী সনকে স্বাগত জানানো আজ মুসলিম সমাজের জন্য দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। সেই দায়িত্ব পালনে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা হাশেমী (মু.জি.আ)’র নির্দেশক্রমে গাউছিয়া হাশেমী কমিটি এগিয়ে এসেছে। বক্তারা সরকারের নিকট হিজরী সনের প্রথম তারিখ সরকারি বন্ধের ঘোষণার দাবি জানান এবং সরকারি ভাবে হিজরী সন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এর কর্মসূচী পালনের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে র‌্যালীটি এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফে এসে মিলিত হয়। পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম বিশ্বের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কমনা করে বিশেষ মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ