মোট দেখেছে : 3,802
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

আনোয়ারায় চেয়ারম্যান কর্তৃক সংখ্যালঘু নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলা কর্ণফুলী থানার বৈরাগ ইউনিয়নের বন্দর গ্রামে, বন্দর সিংহপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দিরের পাশে এই লকডাউনের মধ্যেও চলছে সংখ্যালঘুদের জায়গা

দখলের চেষ্টা। সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের হিংস্র ছোবল থেকে বাঁচতে লড়াই করে যাচ্ছে, এই সুযোগে জমি দখল করতে সংখ্যালঘুদের উপর ২ দফা হামলায় 

প্রমিলা সিংহ, প্রতিমা সিংহ,চন্দ্রমোহন সিংহ, শিব সিংহ, মাইকেল দেব বর্মণ, প্রভাষ সিংহ, রাম চন্দ্র দাশ চন্দন, উৎপল সিংহ, সুসন সিংহ, সুজন সিংহ, বলরাম, ঝরণা, জনি, মৃদুল, কবিতা,

হারাদন, তিলক, চন্দ্র মোহন, মীরা সিংহ সহ এ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এই সময় চেয়ারম্যানের সশস্ত্র দলবলের এ হামলায় আহত হয়েছে দুই পুলিশ সদস্য। ভুক্তভোগীরা

বলেন আপোষের নামে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে রুমে তালা লাগিয়ে বেপরোয়া পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে তারা স্থানীয়দের। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল । উক্ত

ঘটনায় আহত সুসেন সিংহ বলেন, ‘বন্দর গ্রামে আমাদের ২১ গন্ডা জায়গার মধ্যে ১৬ গন্ডা জায়গা ইউনিয়ন পরিষদের নামে দান করে দেয় আমাদের পূর্বপুরুষরা। আর ৫ গন্ডা জায়গায়

সীমানা বাইরে ছিলো। এখনও পর্যন্ত কোন চেয়ারম্যান এই ৫ গন্ডা জায়গা দাবি করেননি। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান আমাদের জায়গাটা দখল করার জন্য উঠেপড়ে লাগে।’

আহত সুসেন সিংহ আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা দেয়াল দেয়ার নাম করে তারা এই জায়গা দখলে নিতে চাইলে আমরা বাধা দিই। এ সময় চেয়ারম্যান

আমাদের উপর হামলার নির্দেশ দেয়। সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনার পর ফাঁড়ির এসআই পারভেজসহ আরেকজন পুলিশ সদস্য এসে আপোষের কথা বলে। আজ (১৫ মে ) শুক্রবার ‘

চেয়ারম্যানের নির্দেশেই আমাদের পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার দলবল আবারও আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় এসআই

পারভেজ বাঁধা দিতে চাইলে তাকেও কিল-ঘুষি মারতে থাকে এরা। পরে থানা থেকে পুলিশ এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে।’





এলাকাবাসীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্ধা জানান এবং দোষিদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার পৃর্বক শাস্তির দাবি জানান। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী

থানার ওসি বলেছেন ভূমিমন্ত্রী নির্দেশ ছাড়া কোন মামলা নেওয়া যাবে না। মন্ত্রী মহোদয় ফোনে বলেছেন, ওনার বাসায় গিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে। ওসির নির্দেশনা পেয়ে ভূমিমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম নগরীর সার্সন রোডের বাসায় দুপুর ২ টা ৩০মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বসে থেকে ভুক্তভোগীদের কেউ মন্ত্রীর দেখা পাননি। এ সময় মন্ত্রীর বাসার লোকজন ভুক্তভোগীদের বলেন,

‘আপনারা থানায় চলে যান। মন্ত্রী যা বলার ওসিকে বলে দিয়েছেন। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘তেমন কোন ঘটনা হয়নি। তবে ঘটনায় যদি কেউ আহত

হয়ে থাকে, তদন্তের পর মামলার বিষয়টি দেখা যাবে।’ তিনি ভুক্তভোগীদের মন্ত্রী বাসায় যাওয়ার পরামর্শের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এমন রক্তাক্তের ঘটনার পরও মামলা নিতে থানা পুলিশের

গড়িমসির নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। এ ঘটনার ব্যাপারে বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান সৃষ্টি টিভিকে জানান, তিনি এ

ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না,তিনি আরো বলেন, আমি ঘুম থেকে উঠে এ ঘটনার কথা শুনি। ইউনিয়ন পরিষদের যেই জায়গা নিয়ে  এই ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে

চেয়ারম্যান জানান,ষোল গন্ডা জায়গায়টি ইউনিয়ণ পরিষদের।

তাকে ঘায়েল করার জন্য অন্যপক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান। এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টাণ ঐক্য পরিষদের সাধারণ তাপস হোড় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে

বলেন,করোনার এ দুঃসময়ে আনোয়ারায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ন্যাক্কার জনক ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান,তিনি ভুমি মন্ত্রী ও প্রসাশনের পূর্ন সহযোগীতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড় বলেন ‘এর আগেও আনোয়ারাতে সংখ্যালঘু পরিবার ও মন্দিরে হামলার ঘটনার কোন বিচার

হয়নি। শেষমেশ সম্পত্তি উদ্ধারের করেই আড়াল করে দেওয়া হয়েছে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের বিচার। বৃহত্তর একটি জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় প্রশাসন হামলাকারীদের পক্ষে থাকায় এসব ঘটনার

সুষ্ঠু কোন বিচার হয়নি অতীতেও। একজন মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় এভাবেই একের পর এক সংখ্যালঘুদের হামলা করে জায়গা দখলের ঘটনাকে কোনভাবেই ভাল দৃষ্টিতে দেখছেন না

কেউ।



আমরা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো।

সৃষ্টি টিভি কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।


আরো দেখুন

আরও সংবাদ