মোট দেখেছে : 55
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

প্রয়াত কিংবদন্তি গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চুর সম্মানে এবার জন্মদিনের কেক কাটবেন না জেমস

প্রয়াত কিংবদন্তি গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চুর সম্মানে এবার কেক কাটবেন না জেমস । বন্ধুর সম্মানে নিজের সাদামাটা জীবনেই বেশি আগ্রহী তিনি। এছাড়াও ভক্তদেরও তার জন্মদিনের কেক কাটতে নিষেধ করেছেন। তাই এ বছর কোনও আয়োজন থাকছে না।’

গত বছরের ১৮ অক্টোবর মারা যান ব্যান্ড জগতের অন্যতম তারকা আইয়ুব বাচ্চু। হঠাৎ চলে যাওয়ায় থমকে যায় সংস্কৃতিজগৎ। ভক্তরা হয়ে ওঠেন শোকে কাতর। এ চলে যাওয়ার প্রভাব ফেলে ব্যান্ড জগতের আরেক কিংবদন্তি জেমসের মনেও। বাচ্চুর মৃত্যুর পরেই এক কনসার্টে জেমসকে দেখা যায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে গিটারে তুলেছিলেন শোকের সুর। বন্ধুকে হারানোর শোকে সেদিন জেমসকে দেখা গিয়েছিল অশ্রুসিক্ত।

জেমসের জন্ম রাজশাহীর নওগাঁর পত্নীতলায় ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর। আজ ৫৫ বছরে পা দিলেন দেশের শীর্ষ ব্যান্ডদল ব্যান্ড নগর বাউল এর কর্ণধার এবং ভোকালিষ্ট মাহফুজ আনাম জেমস। গতকাল রাত থেকেই ভক্ত অনুরাগীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন এই ব্যান্ড তারকা।

কৈশোর, তারুণ্য কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। বাবা সরকারি বড় কর্মকর্তা হলেও তিনি ছিলেন অনেকটা বোহেমিয়ান। চট্টগ্রামে আজিজ বোর্ডিংয়ের একটি রুমে থেকে সঙ্গীত চর্চা ও সন্ধ্যার পর নাইট ক্লাবে গান করতেন। এভাবেই জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে তার। পরে ঢাকা চলে আসেন।

ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া ব্যান্ডদল ফিলিংস এর মাধ্যমে তিনি প্রথমে খ্যাতি অর্জন করেন। পরে সেই ব্যান্ড দলের নাম ‘নগর বাউল’ করেন। এছাড়া জেমস রেড ডট এন্টারটেইনমেন্ট নামক একটি প্রডাকশন হাউস পরিচালনা করেন।

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফিলিংস’ নামক একটি ব্যান্ড। জেমস নিজেই ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘ষ্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়। পরে ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের অ্যালবাম রিলিজ করে সুপার হিট হয়ে যান জেমস। এরপর ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবাম গুলো ফিলিংস ব্যান্ড থেকে বের হয়।

এছাড়াও জেমসের অন্যান্য অ্যালবামগুলো হল নগর বাউল থেকে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’। একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’, ‘পালাবে কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, ‘কাল যমুনা’ ।

বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতে কাজ করার কারণে পশ্চিম বঙ্গেও খুব জনপ্রিয় জেমস। সেই সূত্রে ২০০৪ সালে বাঙালি সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমের সঙ্গে মিলিত হন তিনি। ২০০৫ সালে বলিউডের গ্যাংস্টার চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় তা বলিউড টপচার্টের শীর্ষে ছিল।

২০০৬ সালে তিনি ও লামহে নামক চলচ্চিত্রে ‘চল চলে’ গানে কণ্ঠ দেন। ২০০৭ সালে তিনি লাইফ ইন এ মেট্রো চলচ্চিত্রে আবারও প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান দুইটি হলো রিশতে এবং আলবিদা (রিপ্রাইস)। সর্বশেষ হিন্দি চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক করেছেন ওয়ার্নিং নামক চলচ্চিত্রে। তার গাওয়া বেবাসি গানটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

সংগীতে অবদানের জন্য ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’, ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’, ‘সিটিসেল-চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’সহ দেশি-বিদেশের আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন জেমস।

‘দেশা দ্য লিডার’ ছবির জন্য গান করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। জেমসের জনপ্রিয়তা শুধু দেশে নয়, আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক জনপ্রিয় এই তারকা।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ