মোট দেখেছে : 64
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

মমতাকে বাংলায় এসে কড়া আক্রমণ রাহুলের, তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক

 


মালদহের চাঁচলে সভা করতে এসে নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। এ রাজ্যে লোকসভা ভোটে মমতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেওয়া শুধু নয়, বাংলা থেকে তৃণমূল সরকারকে সরানোরও ডাক দিয়ে গেলেন কংগ্রেস সভাপতি। বুঝিয়ে দিলেন, তৃণমূলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনীতির থেকেও দলকে শক্তিশালী করাই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাবে। 


কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়া নিয়ে জোর চর্চা চলেছে। যদিও রাহুল গাঁধীর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট নিয়ে বরাবরই আপত্তি ছিল মমতার। তা সত্ত্বেও বিজেপি-কে ক্ষমতাচ্যুত করতে দিল্লিতে তৃণমূলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েই চলছিল কংগ্রেস। মমতার ব্রিগেডের সভায় দূত পাঠিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন রাহুলও। তবে তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিয়ে প্রবল বিরোধিতা ছিল প্রদেশ কংগ্রেসে। বাংলার কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলের আগ্রাসী রাজনীতি নিয়ে বার বারই রাহুলের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।


এমনিতেই বাংলায় কংগ্রেস একা লড়ছে। ফলে দলের মনোবল চাঙ্গা করতে বাংলায় এসে মমতার বিরোধিতা করা ছাড়া অন্য পথও ছিল না রাহুলের সামনে। এ দিন মালদহের চাঁচলে সভা করেন কংগ্রেস সভাপতি। যে মালদহ একসময়ে কংগ্রেসের গড় ছিল, সেখানকার সাংসদ মৌসম বেনজির নুরকে দলে টেনে কংগ্রেসের বিপদ আরও বাড়িয়েছে তৃণমূল। 


এই অবস্থায় এ দিন মালদহের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সরকারের সমালোচনায় বেশি সময় ব্যয় করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন রাহুল। কড়া ভাষায় বুঝিয়ে দেন, বাংলায় দলের হাল ফেরাতেই ভোটের মরশুমে তৃণমূলের সঙ্গে আপাতত ‘সুসম্পর্কে’ ইতি টেনে দিলেন তিনি। 


এ রাজ্যে কংগ্রেস কর্মীরা শাসক দলের হাতে যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন তা নিয়ে সরব হন রাহুল। প্রশ্ন তোলেন শাসক দলের উন্নয়ন নিয়েও। সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের তুলনা টেনে রাহুল বলেন, ‘‘বাংলার যুব সমাজকে বলছি, বছরের পর বছর আপনারা সিপিএম-কে দেখেছেন। এর পরে আপনারা মমতাজিকে বাছলেন। সিপিএমের মতোই একই ধরনের অত্যাচার করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। সিপিএমের আমলে দলের জন্য সরকার চলত, এখন একজন ব্যক্তির জন্য সরকার চলছে।’’ 


লোকসভা ভোটে যে বাংলায় কংগ্রেসের মূল প্রতিপক্ষ তৃণমূলই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে তৃণমূল বিরোধিতাকে লোকসভা নির্বাচনে বেঁধে না রেখে আরও বড় লড়াইয়ের ডাক দেন রাহুল। এ রাজ্যে কংগ্রেসের বর্তমান শক্তির নিরিখে প্রায় অসম্ভব শোনালেও বাংলায় ক্ষমতা দখলের ডাক দেন রাহুল গাঁধী। কংগ্রেস কর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় না এলে এখানে উন্নয়ন হবে না। আমি কংগ্রেস কর্মীদের কথা দিচ্ছি, বাংলায় সরকার গড়ার জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাব।’’


মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর দলবদল করে তৃণমূলে গিয়েছেন। তাঁকেও বিঁধতে ছাড়েননি রাহুল। বলেন, প্রতারকদের শিক্ষা দেবে মালদহের মানুষ। মালদহের গড় ধরে রাখতে মরিয়া রাহুল বলেন, ‘‘ভাল সময় হোক, খারাপ সময় হোক, এখানকার মানুষ সবসময়ে কংগ্রেসের পাশে থেকেছে, কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে। দিল্লিতে আমাদের সরকার তৈরি হলেও আমি তা ভুলব না। এটা হৃদয়ের সম্পর্ক, রাজনীতির নয়।’’ ক্ষমতায় এলে মালদহের আম চাষিদের জন্য আম বাগানের পাশেই আম প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ দিন রাহুলের এই কড়া আক্রমণের পরে ভবিষ্যতে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও কংগ্রেস এবং তৃণমূল সম্পর্ক কোনদিকে গড়ায়, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ