মোট দেখেছে : 424
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

অবৈধ বালু উত্তলনে প্রায় ১০০ একর জমি নদীর গর্ভে বিলীন

স্টাফ রিপোর্টার:


চরচারতলা ও চরলালপুর বালু মহাল ইতিপূর্বে অর্থ বছরের ন্যায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্যও হাজী জয়নাল আবেদিন, পিতা- মরহুম কালা মিয়া ও সেলিম পারভেজ, পিতা- হাজী লায়েস মিয়া, সর্ব সাং- চরচারতলা, উপজেলা আগুগঞ্জ গং ব্যক্তিগন ইজারা গ্রহণ করে। 

বালু মহালের নির্ধারিত স্থানে এবং নির্ধারিত নিয়ম কানুন  অনুসারে বালু মহাল ড্রেজিং ক্রমে বালু উত্তলনের বাধ্যবাধকতা থাকা স্বত্বেও ইজারাদার ব্যক্তিগন এলাকার অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের সিন্ডিকেটভুক্ত লোকজনদের নিয়া বালু মহলের নির্ধারিত স্থানের বিপরীতে চরের ভূমি যাহা বি,এস খতিয়ানের নক্সাভুক্ত অবস্থায় আছে এই চরের ভূমি ইতিপূর্বেরকার ন্যায় রাতপর রাতের আধাঁরে প্রায় ১০০ একর জমি হইতে ড্রেজিং করিয়া মাটি, বালু উত্তলন করিয়া নেয়।


চরের ভূমির নিচে যেখানে শুল্ক মৌসুমে বোরো ধান উৎপন্ন হয় ঐ ভূমির নিচের নদীর লাগোয়া লুপ্ত ভূমি বিদ্যমান ছিল। উক্ত ইজারাদারগণ তাহাদের অবৈধ উদ্দেশ্যে হাছিল করিতে গিয়া প্রথমত লুপ্ত ভূমি মাটি ড্রেজিং করিয়া কাটিয়া নেয়। 


উক্ত ইজারাদারগণের অন্যায়ের কার্য্যের চরের ভূমির মালিকগন বাধা প্রদান করিলে, তাহারা প্রথমত চরের ভূমির মালিকগনকে আশ্বস্ত করেন যে, কেবলমাত্র লুপ্তের ভূমি হইতে হালকা আকারের মাটি ড্রেজিং করিবে এবং তাহাতে কাহারো ক্ষতি হইবেনা।


কিন্তু ইজারাদারগণ চরের ভূমির মালিকগনকপ মিথ্যা আশ্বাস দ্বারা অন্ধকারে একসাথে একাধিক ড্রেজার দ্বারা নদীর লুপ্ত ভূমি উপরে বোরো উৎপাদনের স্থান সহ একাধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন চরের ভূমি যেখানে আলু, সরিষা, গম উৎপন্ন করা হয় এই ভূমি সহ কাটিয়া চরের ক্ষতি সাধন করে।


তারা বলেন, উক্ত ইজারাদারগণ বেআইনিভাবে আমাদের মালিকানাধীন ভূমির ড্রেজিং করার দরুন আমাদের ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রায় ১০০ একর জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়া গিয়াছে। 


তাছাড়া উক্ত ব্যক্তিগন অসৎ ও বেআইনি উদ্দেশ্যে আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি ও বোরো উৎপাদনের স্থান অপরিকল্পিত ও গভীরভাবে মাটি ড্রেজিং করার দরুন চরচারতলার মৌজার চরের বিস্তির্ণ ভূমি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়াছে।


ইজারাদারগণ কর্তৃক উক্তরূপ বেআইনি কার্য্যের দরুন এলাকায় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করিতেছে, উক্তরূপ অসন্তোষ নিবারণ না হইলে, যে কোন সময় ভুক্তভোগীদের সহিত ইজারাদারগণের চরম দাঙ্গা হাঙ্গামার হইয়া আইন শৃঙ্খলা অবনতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হইতে পারে।


"ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা আরো বলেন"


উল্লেখ্য যে, ইজারদারগণ প্রায় ৫০০ কানি জমি ড্রেজিং করিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করিলে, আমরা দরখাস্তকারীগণ  জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবর দরখাস্ত করিলে, মহোদয়ের নির্দেশক্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশুগঞ্জ একাধিকবার তারুয়া ও আশুগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাগণকে সঙ্গে নিয়া সরজমিনে তদন্ত করিলে আমাদের দাবীর সততা পায়।


উক্তরূপ পরিস্থিতিতে মহোদয় কর্তৃক ইজারাদারগণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করিলে, ইজারাদারগণ তাহাদের অন্যায়ের কার্য্যের দরুন স্বীকারোক্তি ক্রমে অনুতপ্ত প্রকাশ করিয়া লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ম,ম,আবুল খায়ের ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী বাবু সুহাশ দাস চৌধুরী সাহেবের মধ্যস্থায় আশুগঞ্জ উপজেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়া আপোষ মিমাংসা করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির কিছু অংশ অন্যত্র হইতে মাটি ড্রেজিং করিয়া আনিয়া ভরাট করে দেয়।


উক্ত আপোষ মিমাংসার আলোকে ইজারাদারগণ বিগত ২১/০৩/২০১৮ ইং তারিখে অঙ্গীকারনামা প্রদান করে। উক্ত ইজারাদারগণ ভবিষ্যতে উক্তরূপ ফসলি ভূমির ক্ষতি সাধন করিবেনা মর্মে অঙ্গীকার করিয়া তাহার বর্তমান অর্থ বছরের লীজ গ্রহণ করে।


দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, উল্লেখিত ইজারাদারগণ মূলতঃ অভ্যাসগত অপরাধীর ন্যায় বিগত বছরের মতো এই বছরেও প্রায় ১০০ একর ভূমির মাটি কাটিয়া ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।


এলাকাবাসী মনে করেন, 

ইজারাদারগণ কর্তৃক তাহাদের উক্তরূপ বেআইনি কর্মকান্ড নিবৃত্ত করা না হইলে চরের প্রায় ১০০০ (একহাজার)  একর ভূমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি লালপুর বাজার সহ আশে পাশের কয়েকটি গ্রাম চরম ভাঙন দেখা দিয়া নদী গর্ভে দ্রুততার সহিত বিলীন হইয়া যাইবে। এতে করে ভুক্তভোগী ও ইজারাদারগণের মধ্যে চরম দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃস্টি হতে পারে।


তাই ক্ষতি ও দাঙ্গা হাঙ্গামা থেকে রেহাই পেতে এবং ভবিষ্যতে চরের ভূমি যাহাতে সম্পূর্ণরূপে নদী গর্ভে বিলীন হইয়া সর্বনাশের কারন না হয় উক্ত বালু মহালটি সম্পূর্ণরূপে ইজারার বহির্ভূত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর গণসাক্ষর সংযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সমীপে একটি লিখিত দরখাস্ত প্রেরন করিলে জেলা প্রশাসক যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।



আরো দেখুন

আরও সংবাদ