মোট দেখেছে : 211
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র চকরিয়া থেকে উদ্ধার

সাতকানিয়া প্রতিনিধি:


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণের ১৮ ঘন্টা পর চকরিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মো. হোসেন(২২) নামে এক অপহরনকারীকে গ্রেফতার করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মামার কাছে বেড়াতে নেয়ার বাহানা করে অপহরনকারী জাকাওয়ান মো. আনাচ(৯) নামে ওই স্কুল ছাত্র কে অপহরণ করে। অপহৃত ছাত্রটি উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মনেয়াবাদ এলাকার আবু তালেবের ছেলে এবং মনেয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। 

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ও বাজালিয়া  ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হোসনে আজিজ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এলাকা থেকে ছাত্রটিকে অপহরণ করা হয়। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া বাস ষ্টেশন এলাকা থেকে অপহরন গ্রেফতার করে অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে ছাত্রটির বাবা বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। 

মামলার এজাহার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের মনেয়াবাদ এলাকার হোটেল ম্যানেজার আবু তালেবের ছেলে জাকাওয়ান মো. আনাচ গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী হোসনে আজিজ ফাউন্ডেশনের মিলাদ মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। রাতে ফিরে না  আসায় সম্ভাব্য অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও ছাত্রটিকে হদিস না মিললে রাতেই ছাত্রটির মামা রকিম উদ্দিন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। নিখোঁজের প্রায় ৫০ মিনিট পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ছাত্রটির মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে রবি কোম্পানীর একটি নম্বর (০১৮১৬৪-২০৭৭৪০) থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। 

এ ব্যাপারে অপহৃত ছাত্রের বাবা আবু তালেব বলেন, মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি জেনে আমি ও আত্মীয়রা অপহরণকারীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামীন কোম্পানীর একটি বিকাশ  নম্বর (০১৭৭০-৭৫৩৫৩৩) থেকে প্রথমে ৫ হাজার টাকা পাঠাই। তখন অপহরণকারীর অবস্থান পটিয়া বলে জানতে পারি। কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা পটিয়া পৌঁছলে সেখানে তাদের পাওয়া যায়নি। তাকে (অপহরনকারী) টাকার লোভ দেখালে সে আমার ছেলেকে তাৎক্ষনিক ফেরত দিবে বললেও তার অবস্থান ষ্পষ্ট করেনি। পরে আরো ৩ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অপহরনকারীকে দেয়া হয়।

আবু তালেব আরো বলেন, (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে আমার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে পুনরায় ১৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণকারী বলে, দাবিকৃত ১৫ হাজার টাকা দিলে এক ঘন্টার মধ্যে আমার ছেলেকে সে ফেরত দিবে। বিষয়টি যথাসময়ে আমি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পরে পুলিশ (শনিবার) কক্সবাজারের চকরিয়া বাস ষ্টেশন এলাকা থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার করে অপহরনকারীকে গ্রেফতার করে।

উদ্ধারকৃত ছাত্র জাকাওয়ান মো. আনাচ বলে, গাড়িতে উঠিয়ে কক্সবাজার নিয়ে এশিয়া হোটেলে রাত্রি যাপন করি। সকালে সেখান থেকে আমাকে চকরিয়া নিয়ে আসে। সেখানে দেখি আমার বাবা ও মামারা এসে ওই লোকটিকে ধরে ফেলে এবং আমাকে উদ্ধার করে। 

অপহরণকারী মো. হোসেন শিশুটিকে মুক্তিপনের উদ্দেশ্যে অপহরন করা হয়েছে স্বীকার করে বলে,  অপহরণের পর দুই দফায় ছেলেটির অভিভাবক থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছি। তার মামার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আনাচকে অপহরন করে পটিয়া ও বোয়ালখালী হয়ে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রাত্রি যাপন করি।  অপহরনকারী মো. হোসেন আরো বলে, সে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন কালুরঘাট সিএন্ডবি বিসিক এলাকার আবু ছিদ্দিকের ছেলে এবং সে ওয়েল গ্রুপের গার্মেন্টস এ চাকুরি করে।


সাতকানিয়া থানা পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরনকারী স্বীকার করে। তাকে মুক্তিপণের লোভ ও মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে চকরিয়া বাস ষ্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় শিশুটিকেও। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবু তালেব বাদী হয়ে শুধুমাত্র গ্রেপ্তারকৃত অপহরনকারী হোসেনকে আসামী করে থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।   

আরো দেখুন

আরও সংবাদ