মোট দেখেছে : 131
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

সাতকানিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত

রুবেল দাশ

সাতকানিয়া প্রতিনিধিঃ


সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন চট্টগ্রাম -১৪ আসনের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় মুখ্য উপদেষ্টা-১ হিসেবে চট্টগ্রাম -১৫ আসনের মাননীয় সাংসদ প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী'র পাশাপাশি মুখ্য উপদেষ্ট-২ হিসেবে চট্টগ্রাম -১৪ আসনের মাননীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীও অংশ গ্রহন করে থাকেন। ২০১৪ সাল থেকে এই দুই মাননীয় সাংসদের জন্য সমন্বয় সভায় আসন সংরক্ষিত থাকে এবং প্রথানুযায়ী সমন্বয় সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাননীয় সাংসদদ্বয়কে বরণ করে থাকেন। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার অনুষ্ঠিত সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার উন্নয়নের কান্ডারী এবং মাটি ও মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু জননেতা প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি মহোদয়ের জন্য কোন আসন সংরক্ষণ না করা এবং প্রথানুযায়ী ইউএনও কর্তৃক রিসিভ না করা এবং সভাস্থলে ঢুকে আসন না পেয়ে মাননীয় এমপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করা এবং এই ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার কুমানসে এমএ মোতালেব ও তার কতিপয় ভাড়াটে কর্তৃক অতিরঞ্জিত ও মুখরোচক সংবাদ পরিবেশনের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা গভীর ষড়যন্ত্র ও হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ। বান্দরবানের লামা উপজেলায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন পরিদর্শনের কর্মসূচি থাকায় এমপি মহোদয়ের সভায় অংশগ্রহন করতে একটু দেরি হতে পারে- বিষয়টি নবাগত ইউএনও সাহেবকে অবহিত করা হয়েছিল। ইউএনও যেহেতু সমন্বয় কমিটির সভাপতি সেহেতু পূর্বের প্রথা ভঙ্গ এবং আসন সংরক্ষণ না করা; সর্বোপরি এমপি মহোদয় সভাস্থলে ঢুকার পরও বসার ব্যবস্থা না করা একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর চরম অসৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ এবং এই ধরণের রহস্যজনক ও অবাঞ্ছিত আচরণের জন্য মাননীয় এমপি কর্তৃক ইউএনও'র কাছে কৈয়ফিয়ত তলব অত্যন্ত স্বাভাবিক। এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নবাগত ইউএনও নিজের অনভিজ্ঞতা ও অনিচ্ছাকৃত ভুল দাবী করে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে ইউএনও'র ঔদ্ব্যত্তপূর্ণ আচরণে মনে হয়েছে তিনি কারো দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির জন্ম দিয়েছেন। সভাস্থলে উপস্থিত অপর মাননীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও চেয়ারে বসা উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব সাহেব রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করেন। যথানিয়মে সভার কার্যক্রম শুরু হলে মোতালেব সাহেব তার বক্তব্যের শুরুতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার কুমানসে ইউএনও'র পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন। এতে করে অনভিপ্রেত এই ষড়যন্ত্রের পেছনে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও'র যোগসাজশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় মাননীয় এমপি মোতালেব সাহেবের অযাচিত ও অনাধিকার মূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে চরম অসৌজন্য মূলক আচরন করেন এবং তার অনুসারী চট্টগ্রাম -১৪ আসনের সাথে সংযুক্ত এবং আমার আসন থেকে সুযোগ সন্ধানী গুটিকয়েক ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে নিয়ে তিনি সভাস্থল থেকে বেরিয়ে যান। পরে মাননীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর হস্তক্ষেপে সকলের অংশগ্রহনে সভার কার্যক্রম শেষ হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দুঃস্থ-দরিদ্রদের মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত মতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে এখানেই শেষ করার কথা হলেও এমএ মোতালেব ও তার কতিপয় ভাড়াটে সুপরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কুমানসে মিডিয়ায় অতিরঞ্জিত ও মুখরোচক সংবাদ আনয়নে দেনদরবার শুরু করে।


বলার অপেক্ষা রাখেনা, দলীয় কোন্দল এবং বিভাজনের রাজনীতি সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ মোতালেবের চিরাচরিত অভ্যাস। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরও অতীতের ন্যায় সংকীর্ণতা, পরশ্রীকাতরতা ও গ্রুপিং এর রাজনীতির খোলস থেকে বের হতে পারেননি তিনি। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে বিগত দুই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা সবার জানা। প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁকে কোণঠাসা করে রাখার পেছনে তিনি যে সময় ব্যয় করেছেন তার কিয়দংশ যদি দলের স্বার্থে ব্যয় করতেন তাহলে সাতকানিয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ভিত্ আরো অনেক শক্তিশালী হতো। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে জামাত-শিবির জ্বালা, পোড়াও, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনসহ নানা জঙ্গি তৎপরতার সাতকানিয়াকে যখন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভয়ারন্যে পরিণত করে তা প্রতিরোধে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে তাঁর কোন ভূমিকা দৃশ্যমান ছিলনা। বরং নৌকার জয়কে বাধাগ্রস্থ করতে স্থানীয় জামাত-শিবিরের গোপন আঁতাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তার আপন ছোটভাই জামাতের রোকন মাওলানা মাহমুদুল হককে দিয়ে এই আঁতাত করেন। চট্টগ্রাম শহরের রেয়াজুদ্দিন বাজার-টেরিবাজার কেন্দ্রীক জামাত আখাড়া এবং এসব এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জামাত-শিবিরের অর্থের যোগানদাতার মূল কারিগর এই মাওলানা মাহমুদুল হক। তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বনফুল এবং কিষোয়ান গ্রুপে চাকুরিরত অধিকাংশই জামাত-শিবিরের নেতাকর্মী। সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যেকোন গোপনীয় সিদ্ধান্ত তার ভাই মাওলানা মাহমুদুল হকের মাধ্যমে মুহুর্তেই জামাত-শিবিরের কাছে পৌঁছে যায়। দলীয় মিটিং শেষ করেই ভাইয়ের সাথে সবকিছু শেয়ার করা নাকি তার মজ্জাগত অভ্যাস। তার ভাইয়ের সাথে পরামর্শক্রমে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নজিরও রয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের এই গুণধর সভাপতির বিরুদ্ধে। তার পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের অধিকাংশই জামাত-শিবির ঘরানার। তার বাড়ির কেন্দ্রে স্বাধীনতার পর থেকে কোন নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর ভোটের অংক শত অতিক্রম করেনি। নির্বাচন পরবর্তী সমন্বিত উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার জন্য মাননীয় এমপি'র বিভিন্ন উদ্যোগ এমএ মোতালেবের অসহযোগিতার কারনে বারবার বাধাগ্রস্থ হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি মাননীয় এমপি প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী'র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিরোধিতা করেন।


এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবানঃ- আসুন, ব্যক্তি আর গ্রুপিং এর রাজনীতি বাদ দিয়ে সকল প্রকার ব্যক্তি স্বার্থ ও সংকীর্ণতার উর্ধে উঠে দলকে শক্তি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বর্তমান উন্নয়নের ধারাকে বেগবান রাখার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তি-সুন্দর ও বাসযোগ্য মডেল সাতকানিয়া লোহাগাড়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরীক্ষিত ও অত্যন্ত আস্থাভাজন মাননীয় সাংসদ প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হই এবং রুখে দেই সকল প্রকার ষড়যন্ত্র।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ