মোট দেখেছে : 663
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

পটিয়ায় যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পিটিআই প্রশিক্ষকের আত্মহত্যাচেষ্টা

মোঃ হোছাইন জুয়েলঃ


চট্টগ্রামের পটিয়ায় যৌন হয়রানি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে দেবব্রত বড়ুয়া নামে পিটিআইয়ের এক ইন্সট্রাক্টর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে তিনি পটিয়ায় তার নিজ বাসায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।  বর্তমানে তিনি নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, আত্মহত্যার চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। 

পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেবব্রত বড়ুয়া পরপর বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিতে অভিযোগ করে বলেন, পিটিআইয়ের চার জন ইন্সট্রাক্টর দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে নানা ধরনের অসদাচরণ করে আসছিলেন। মেয়েদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন ও পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করত বলেও অভিযোগ করা হয়। বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার মেয়েরা এ বিষয়ে জানালে তিনি প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিটিআইয়ের ইন্সট্রাক্টর  ফারুখ হোসেন, জসীম উদ্দীন, রবিউল ইসলাম, সবুজ কান্তি আচার্য্য এর চার জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন আত্মহত্যার চেষ্টাকারী দেবব্রত বড়ুয়া। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। সেই সাথে তাকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। আর এই কারণে প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে ও ফেসবুকে জানান।

তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী, সন্তানরা কি কি পাবেন সেই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, ফেসবুকে আত্মীয় স্বজনরা তার আত্মহত্যার স্ট্যাটাসটি দেখার পর পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে পরিবারে সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা মিলে পটিয়ার বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।


এদিকে আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পটিয়ায় পিটিআইয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। এ সময় দোষীদের আইনের আত্ততায় আনার ও দাবি জানানো হয়।

প্রশিক্ষণার্থীরা মানববন্ধন থেকে বলেন, দেবব্রত বড়ুয়া একজন প্রতিবাদী মানুষ। তিনি আমাদের রক্ষা করা জন্য প্রতিবাদ করেছেন। নিজের প্রাণ দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেননি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।

দেবব্রত বড়ুয়ার এই ধরনের আত্মহত্যার চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয় স্বজনরা নগরীর রয়েল হাসপাতালে এসে ভিড় করেন। বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন তিনি।

হাসপাতালের বেড থেকে দেবব্রত বড়ুয়া বলেন, সব কিছু তো বলা যায় না। এমন কিছু গোপনে অপরাধ ঘটে তা বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করেছি। সফল তো হয়নি; বরং বহুগুণে অপরাধ আরো বেড়ে গেছে। তারা চার জন এক জোট হয়ে আরো বেশি অপরাধমূলক কাজ করছে। যে বিষয়টি নারীদের জন্য আরো ভয়ংকর। এ সময় তাদের আঘাত করার জন্যই এই পদক্ষেপ।


এ সময় দেবব্রত বড়ুয়া আরো বলেন, এ ধরনের একটি সরাসরি পদক্ষেপ নিলাম যাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষিকা নারীরা বাঁচতে পারেন। নারীদের উপর বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন করা হত নানা কাজের মাধ্যমে। মেয়েদের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হত এই পিটিআইতে। এ সময় তিনি উদাহরণ স্বরূপ বলেন, আনোয়ারার একজন স্কুল শিক্ষককে একা দেখা করতে বলেন এই অপরাধীরা। কেন একজন শিক্ষিকাকে একা দেখা করতে হবে, এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি। এগুলো খুবই অপরাধ জনক কাজ। মাঝে একবার অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছিল, তাতেও কোন ফল আসেনি।

বিভিন্ন সময় পিটিআই সুপারকে এই বিষয় গুলো জানানো চেষ্টা করা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার এই বিষয়ে অভিযোগ করা হলে, মাঝে অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছিলো। কয়েক দিন যেতেই সেগুলো হারিয়ে যেত। মাঝখানে একজন মহিলা সুপার ছিলেন। তাকে এই বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি বলেন, পুরুষ টিচাররা মাঝে মাঝে এই ভাবে গায়ে হাত দেয়, এগুলো সহ্য করতে হয়।


বার বার প্রতিবাদ করার পরও কোনো ধরনের কাজ হচ্ছিল না। চার জন এক হওয়াতে তাদের কাছে অপরিসীম ক্ষমতা। কোনো মেয়েই তাদের আর ভয় না পেয়ে পারবে না, বলেও দাবি দেবব্রত বড়ুয়ার।


রয়েল হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ভোর সাড়ে ছয়টায় আইসিইউতে ভর্তি হয়। অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেবন করার কারণে সুইসাইডাল চেষ্টা করেছিল। শরীর খারাপ অবস্থায় পৌছায় আগেই ওয়াশ করে বিষক্রিয়া বের করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে রোগী আশঙ্কামুক্ত বলে জানায় কর্তব্যরত চিকিৎসক।


স্বজনরা জানান, যারা সুইসাইড করার জন্য প্ররোচনা দিয়েছে তাদের আইনের আত্ততায় আনা হোক। এছাড়া পিটিআইতে মেয়েদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি বার বার কথা বলতেন। প্রতিবাদ করতেন। এই ঘটনার সুরাহা হওয়া উচিত বলে মনে করেন স্বজনরা।


সূত্রঃ স/ম/য়/টি

আরো দেখুন

আরও সংবাদ