মোট দেখেছে : 1,192
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

বাংলাদেশে চরম পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে কীর্তনীয়া দলের সত্বাধিকারী,পরিচালক ও শিল্পীবৃন্দরা ।

বর্তমানে বিশ্বের কোভিড ১৯ এর সংক্রমনের কারনে চরম ক্রান্তিকাল চলছে। ভগবান কবে এই মহামারী হতে সম্পুর্ণরূপে পরিত্রান করবে একমাত্র তিনিই জানেন। আমরা মানব জনম নিয়ে তোমার গুণগান করা ভুলে তামসিক লীলা মত্ত হয়ে আছি সর্বদার জন্য। হে প্রভু আমাদের সকলকে ক্ষমা করো।

বর্তমান এই চরম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সকল কীর্তনীয়া দলের সত্ত্বাধীকারী/পরিচালক/শিল্পীগণ চরম দুর্দিনে দিনাতিপাত করছেন তা হয়তো সকলেরই জানা। অধিকাংশ কীর্তনীয়া দলের পরিচালক/সত্ত্বাধীকারীগণ চড়ামুল্যে ঋণে অর্থলগ্নী করে কীর্তনীয়া দল পরিচালনার জন্য শিল্পীবৃন্দকে অগ্রীম টাকা প্রদান করতে বাধ্য হন দলের মানটা ভাল করার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বিগত কীর্তনীয়া সিজনের ফাল্গুন মাসের শেষভাবে করোনার কারনে কীর্তন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এর পুর্বেই অধিকাংশ শিল্পীবৃন্দকে সিজনের বেতন, পরবর্তী সিজনের অগ্রীম পরিশোধ করা হয়ে যায়। ছিল শুধু কীর্তনের টাকা ঘরে নেওয়ার পালা। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি।

প্রায় দলের পরিচালক/সত্ত্বাধীকারীর সাথে আলোচনায় জানা যায় বর্তমানে তাদের অনেকের ঘরেই চাল, ডাল, নিত্য প্রয়োজন দ্রব্যাদি নেই, ক্রয় করার অর্থও নাই। কিন্তু সরকার ঘোষিত কোন ধরনের সহযোগীতাও কেউ পায়নি। এই অপ্রাপ্তির কথাও কেউ মুখে বলতে পারছেনা।

এই চরম মুহুর্তে এই কীর্তনীয়া দলের শিল্পী/পরিচালকগণ কিভাবে আগামী দিন কাটাবেন তাও কারো চেতনায় আছে বলে মনে হয় না।

এই চরম ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ শ্রীশ্রী হরিনাম সংকীর্ত্তনীয়া সোসাইটি,  হরিনাম সংকীর্তনীয়া শিল্পী সমবায় সমিতি, হরিনাম প্রচার সমিতি, বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক ভক্ত সংগঠনসমূহ কেউই  কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। 

সবচেয়ে বড় কথা হলো আগামী ১৪২৭-২৮বাংলা কীর্তনীয়া সিজন(মৌসুম) কীর্তন হবে কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না।

পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে কিনা বা কতটুকু অনুকূলে আসবে বা সেই পরিস্থিতিতে কীর্তন করা যাবে কিনা তার কোন প্রকার সম্ভাবনাও দেখছিনা। এই চরম পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে এই কীর্তন জগতের শিল্পী/পরিচালক/সত্ত্বাধীকারীগণ আগামী অনাহারে মারা যাবে বলে মনে হয়।

নাম কীর্তন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রাকৃত সৃ‌ষ্টি। যা ছিল, আছে, থাকবে। আর এই নামের প্রচারের উপর নির্ভর করেই চলছে বহু কীর্তনীয়া শিল্পী/দল পরিচালক/সত্ত্বাধীকারীগণের সংসার।

তাই এই দুর্দিনের সকল ভক্ত সমাজকে এই নাম প্রচারকারী শিল্পী/দল পরিচালক/দল সত্ত্বাধীকারী গণের পাশে দাড়ানোর জন্য বিনম্র অনুরোধ জানাচ্ছি।

পাশাপাশি,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনম্রচিত্তে অনুরোধ করছি যদি তিনি এই ধর্মীয় নাম প্রচারকারীগণের দিকে একটু কৃপাদৃষ্টি প্রদান করেন।বাংলাদেশের সকল কীর্তনীয়া,পরিচালক ও শিল্পী বৃন্দের পক্ষে অজয় চক্রবর্তী প্রবীর 

মাননীয় ধর্মমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এই কীর্তনীয়া সমাজকে বাঁচাতে একটু সুনজর দিলে বাংলাদেশের সকল ৪০,০০০কীর্তনীয়া শিল্পী/কীর্তনীয়া দল সত্ত্বাধীকারী-পরিচালক আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ