মোট দেখেছে : 2,856
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

মাস্ক ক্রয়ে জালিয়াতি ঢাকতে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনের ঘাড়ে চাপিয়ে দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা !

সাম্প্রতিক  কেএন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ক্রয়ে জালিয়াতিতে ঔষধ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নিলেও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনের ঘাড়ে চাপিয়ে দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী কার্যাদেশ দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সনদ যাচাই করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত ১৮ মে মেসার্স এলান কর্পোরেশনের অনুকূলে দেয়া একটি কার্যাদেশের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা উৎপাদনকারীর দেয়া সনদ যাচাই না করেই

অনাপত্তিপত্র দেয়া হয়।ঔষধ অধিদফতরের দেয়া অনাপত্তিপত্রের ভিত্তিতেই এলান কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান কেএন-৯৫ মাস্ক বিদেশ থেকে আমদানী করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে সরবরাহ করার কার্যাদেশ পায়।

শর্তানুসারে প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি উৎপাদনকারীর সরবরাহকৃত ফ্রি সেল সার্টিফিকেট, আইএসও সার্টিফিকেট, সার্টিফিকেট অব এনালাইসিস ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দেন।  কিন্তু বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো কাগজপত্র যাচাই না করেই একই দিনে ওষুধ

প্রশাসন অধিদফতর থেকে আমদানীর পূর্বানুমোদন বা আমদানীর জন্য অনাপত্তিসূচক সনদ প্রদান করে।

নিজেদের এ ব্যর্থতা আড়াল করতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলাও করা হয় তড়িগড়ি করে। নিম্নমানের ৫০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানি করতে গিয়ে প্রতারণা ও ভুয়া কাগজ ব্যবহারের অভিযোগে মহাখালী ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদি হয়ে এলান কর্পোরেশনের আমিনুল ইসলাম আমিনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। গত ২৯ মে রাজধানীর বনানী থানায় ৪৬৮, ৪৭১ ও ১৯৮ ধারার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদি ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আযম মিয়াবলেন, মামলাটি তদন্ত করছি আমরা। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

এলান কর্পোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে চুক্তিনামা করে এ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করতেন তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। পরে এসব মাস্কের আমদানিকারক ঢাকার হাজারীবাগের তাজুল ইসলাম ও তার গাড়িচালকের বিরুদ্ধেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ।

এলান কর্পোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলামের দাবি, এলান কর্পোরেশন তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও চুক্তিনামা করে তাজুল ইসলামকে এ লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। 

তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম আমার পরিচিত হলেও এ কাজের কার্যাদেশ প্রাপ্তি কিংবা আমদানী, সরবরাহ কোন অংশেই আমার সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। চুক্তিনামায় উল্লেখ ছিল, যদি তাজুল ইসলামের দ্বারা লাইসেন্সের কোনো অপব্যবহার হয় তাহলে এর সকল দায়-দায়িত্ব তাজুল ইসলামের। 

আমিনুল ইসলাম বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর তড়িঘড়ি করে আমার নামে মামলা দায়ের করে নিজেদের ব্যর্থতা ও অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা করছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আমদানির অনুমতিপত্র প্রদানের দায়িত্ব তাদের। তাজুল যদি কোনো ভুয়া কাগজ দিলে সেটা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে দিয়েছে। তারা নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। 

মামলার অভিযোগে বলা হয় ফ্রি সেল সাটিফিকেট যা কেএন -৯৫ মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজেই ইস্যু করেছে। প্রকৃতপক্ষে  ড্রাগ রেগুরেটরি এসব সার্টিফিকেট ইস্যু করে থাকে।কিন্তু ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা সনদ কেন যাচাই করেনি তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। 


//বি/ডি/২৪//


আরো দেখুন

আরও সংবাদ