মোট দেখেছে : 271
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

করোনা নিয়ে ডা. কথক দাশের পরামর্শ

সৃষ্টি টিভি প্রতিবেদক:


প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে সারাদেশে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২২৭৫ হাজার মানুষ। আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩ জন। ভাইরাসটি নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে।বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি টিভির প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. কথক দাশ। জনস্বার্থে তার সাক্ষাৎকারটি সৃষ্টি টিভির পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।তিনি বলেন, ‘দিনদিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, চারপাশের চিত্র বদলে যাচ্ছে। আমরা চার মাস আগেও যে অবস্থানে ছিলাম বর্তমানে সেখানে নেই। আক্রান্তের হার একটু একটু করে বাড়ছে। চারিদিকে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি ,মনে হচ্ছে মৃত্যুপূরীতে আছি তারপরও বাঁচতে হবে । বাঁচাতে হবে অসহায় নিরুপায় রুগীদের কারণে কেননা আমরা শপথ নিয়েছিলাম (MEDICAL OATH) যেকোন পরিস্থিতিতে যে যার যার অবস্থান থেকে রোগীদের সেবা দিয়ে যাবো , কখনোই পিছু পা হবো না । স্যালুট জানাই সেই সকল বীর চিকিৎসকদের যারা নিজের জীবনের পরোয়া না করে এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে যার যার অবস্থান থেকে দেশের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ।আর এই মহামারী করোনা চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মৃত্যু ও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে এতে করে চিকিৎসকদেরকে কিছু নিয়ম বিধি মেনে চলার পরামর্শ ও দিয়েছেন তিনি । 

১. TDS তথা Time, Distance, Shield এ নীতিটা আপনাকে সর্বক্ষণ মনে রাখতে হবে।Time= যত কম সময় দেয়া সম্ভব।

Distance= করোনা রোগী বা সাসপেক্ট থেকে যথাযথ দূরত্ব (কমপক্ষে ৬ ফুট) বজায় রাখা।

২.Shield= বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা।

৩. রাউন্ড/চিকিৎসা/ ফলোআপের সময় বা ডিউটি রুমে করোণা রোগী বা রোগীর এটেনডেন্ট এর কাছ থেকে যথাযথ দূরত্ব (৬ ফুট) বজায় রাখতে হবে।

৪. রোগী বা রোগীর এটেনডেন্ট এর মুখে মাস্ক না থাকলে তাদের কাছে যাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগতভাবে করোনা ওয়ার্ডে রাউন্ডের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি রোগীদের এটেনডেন্টদের বেশিরভাগেরই করোণা পজিটিভ থাকে।

৫. একেবারে অপরিহার্য না হলে চিকিৎসা হবে যতদূর সম্ভব non touch technique এ। অপ্রয়োজনে examine করার দরকার নাই, দুনিয়ার কোথাও কেউ সেটা করেনা। কথাটা বিভিন্ন দেশের বিশেজ্ঞদের, আমার না।

৬. পালস অক্সিমিটার একবার ব্যবহার করলে পরের বার সেটা disinfect করতে হবে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো Pulse oximeter মেশিনের সুতাটা নিজের হাতে রেখে মেশিনটা রোগীর হাতে দিয়ে দেয়া। রোগীকে ইনস্ট্রাকশন দিতে পারলে রোগী ঠিকই সেটা নির্দিষ্ট আঙ্গুলে সেট করতে পারে।

৭. রোগী বা এটেনডেন্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবেনা , দাঁড়াতে হবে মাথার পাশে যাতে একজনের মুখ আরেকজনের মুখের মুখোমুখি না হয়।

৮. Non-medical person রা PPE বলতে সাদা গাউন কেই বুঝে যা হাস্যকর। এই coverall জরুরী কিছুনা, এপ্রন অন্য যে কোন গাউনেই হয়ে যায়।

Mask, goggles/ face shield, gloves এগুলো হল protection এর মূল উপাদান। Protection এর মূল ইকুইপমেন্ট এগুলিই। স্পর্শ, অ্যারোসল বা airborne যেভাবেই হোক নাক মুখ ও চোখ এই তিন পথেই করোনা শরীরে ঢুকে। এ তিনের বাইরে অন্যকোন পথ নাই।

৯. Mask পড়ার পর ভালো করে ফু দিয়ে দেখতে হবে mask ও মুখের চামড়ার ফাঁক দিয়ে বাতাস বের হয় কিনা বা চশমা ঘোলা হয়ে যায় কিনা। তেমনটা হলে ফিট টেস্ট নেগেটিভ। এই অবস্থায় কোনোভাবেই COVID রোগীর কাছে যাওয়া যাবে না।

১০. ডিউটির সময় কোনভাবেই Mask, goggles বা ফেস শিল্ডের সম্মুখ ভাগে স্পর্শ করা যাবে না। কারণ এদের সম্মুখ ভাগ থাকে সবচেয়ে contaminated.

১১. কোভিড ওয়ার্ডে শর্তহীনভাবে শুধুমাত্র n95 অথবা ইকুইভেলেন্ট মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। রোগীর এটেনডেন্টকে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

(ভারতের গাইডলাইনের Screen shot কমেন্টের ঘরে)

১২. কোভিড ওয়ার্ড অ্যারোসল জেনারেটিং কি জেনারেটিং না, কোন প্রসিডিউর করছি কি করছি না তার ওপর নির্ভর করে n95 বা ইকুইভ্যালেন্ট মাক্স ব্যবহার করা না করা নির্ভর করবে না। কোভিড ওয়ার্ড মানেই n95 বা ইকুইভ্যালেন্ট mask। এর বাইরে আর কোনো কথা নাই, এর বাইরে অন্য কারো কোন কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের জায়গায় থাকতে দিতে হবে, আমেরিকা-ইউরোপের প্রবাসী ডাক্তাররা যত পণ্ডিতই হোক তারা যাতে নিজেরা অন্যদের জন্য সাইন্স তৈরি করে তা মার্কেটিং করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

১৩. Do no harm to you and your family first. নিজের ও নিজের পরিবারের ক্ষতি না করে যতদূর সম্ভব চিকিৎসা দিতে হবে। ডাক্তার ও তার পরিবার নিজেও মানুষ। মানবতাই যদি আমাদের মূল দর্শন হয় সে মানবতার ভাগ ডাক্তার নিজেও পাবে। ডাক্তারের মায়ের কান্না অন্য কারো মায়ের কান্নার চেয়ে কম তীব্র হয় না।

১৪. নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাও Pandemic responsibility র অংশ। আপনি বেঁচে থাকলেতো দেশের মানুষের সেবাই করবেন। মরে যাওয়া মানে দেশ ও ভবিষ্যৎ রোগীদেরও বঞ্চিত করা।

১৫. কথাগুলো বিভিন্ন সাইন্টিফিক source থেকে নেয়া। যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা কোন রণসংগীতের তালে নয় আমাদেরকে সাইন্স মেনে চলতে হবে।

১৬. Demand ও supply এর উপর ভিত্তি করে অনেক সময় উন্নত বিশ্বেও ফেইক সাইন্স তৈরি হয়। সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

১৭. "No amount of precaution is ridiculous when you are dealing with COVID."

আরো দেখুন

আরও সংবাদ