মোট দেখেছে : 117
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

হাসপাতাল বন্ধ না করে রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিবেশ তৈরির আহ্বান : ওবায়দুল কাদের

‘রোগীর অভাবে কোনো কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে, এমন সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে। সংক্রমণের বর্তমান স্তরে রোগীর সংখ্যা কম নয়, তা ছাড়া সাধারণ রোগী তো রয়েছেই। এ প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল বন্ধ রাখা সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন ,আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের । আজ শনিবার দুপুরে সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমি বলব, আপনারা রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনুন। হাসপাতালমুখী হওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন। হাসপাতালের ওপর নানা কারণে রোগীদের আস্থার সংকট তৈরি হওয়ায় রোগী কমছে। তাই আশা করব, আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।’

ঈদে সমাগম এড়ানো না গেলে সংক্রমণ উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যাবে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্তের সংখ্যা একদিন কমলে, আবার পরদিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন ঈদে সমাগম এড়ানো না গেলে সংক্রমণ উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে যাবে।

সরকার গণপরিবহন চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেককে ঈদযাত্রায় নিজের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পশুর হাট, লঞ্চ, বাস, ট্রেন স্টেশন, ফেরিঘাট, শপিংমলসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সর্বোচ্চ সামাজিক দূরত্ব মানার চেষ্টা করতে হবে। মাস্ক পরিধান অবশ্যই করতে হবে। জীবনকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য জীবিকা অর্জনে চলাচল যেন জীবনহানির ঝুঁকিতে না পড়ে, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে পরিবহন মালিকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ঈদে গণপরিবহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ সত্ত্বেও সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে জনস্বার্থে গণপরিবহন চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছে।’

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শুরু থেকেই একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাকেই দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন হিসেবে ব্রত করে নিয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানকে তারা সহযোগিতা ও সমর্থন না দিয়ে বরং অন্ধ সমালোচনা করছে। সরকার নাকি অনিয়মকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জানতে চাই, আপনাদের সময় তো দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল, ছিল দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্য। তখন কি এ ধরনের একটি সাহসী উদ্যোগ নিতে পেরেছিলেন? পেরেছিলেন দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কিছু করতে? পারেননি। যারা গ্রেনেড হামলার বিচার করতে গিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে, চলমান অভিযানকে নাটক বলে পরিহাস করা তাদের মুখেই মানায়। যারা নাটক করে, নাটক সাজায়, তারা সবকিছুতেই নাটক দেখতে পাবেন। এটাই স্বাভাবিক।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘চলমান অভিযান অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজ উদ্যোগেই এসব অভিযান পরিচালনা করেছেন। কোনো দল বা মহল এসব অনিয়মের কথা আগে তুলে ধরেনি। সরকারই উদঘাটন করেছে, কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা আন্তরিক এবং কঠোর অবস্থানে। শেখ হাসিনার কাছে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি প্রশ্রয় পাবে না। এ দেশের রাজনীতিতে সততার প্রতীক বঙ্গবন্ধু পরিবার। তাই শেখ হাসিনা ও সরকারের অর্জন আমরা গুটিকয়েক ব্যক্তির লোভের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ