মোট দেখেছে : 283
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

অসহায় বৃদ্ধা রমি দাশকে সহযোতিগার হাত বাড়ালেন বাগীশিক-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সংসদ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অসহায় বৃদ্ধা রমি দাশকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন বাগীশিক-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সংসদের নেতৃবৃন্দ।বাগীশিক-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, নিডল ড্রপ লিমিটেডের ডিজিএম, তরুন সমাজসেবক সুপ্লব চৌধুরীর ব্যক্তিগত তহবিল হতে এই অর্থ প্রদান করা হয়।

আজ বুধবার ০৫ আগস্ট সকালে বৃদ্ধা রমি দাশের ষোলশহর রেলস্টেশন সংলগ্ন বস্তির বাসায় গিয়ে এই অর্থ সহায়তা তুলে দেন বাগীশিক-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সংসদের নেতৃবৃন্দ। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাগীশিক-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সুপ্লব চৌধুরী, সভাপতি অধ্যাপক শিপুল কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক রূপক শীল, সহ-সাধারণ সম্পাদক রূপন মহাজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক সব্যসাচী দেব টিপু, অর্থ সম্পাদক মিশন দত্ত সপু, সমাজকল্যান সম্পাদক বিপ্লব চৌধুরী, সংগঠক মৃনাল দাশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রুমকী সেনগুপ্ত, অনলাইন পোর্টাল সনাতন টিভির পরিচালক জুয়েল আইচ অর্ক।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন সিএমপি মানবিক পুলিশ ইউনিটের সদস্য শওকত হোসেনের পোস্টের মাধ্যমে ভাইরাল হন রমি দাশ নামের এই অসহায় বৃদ্ধা মহিলাটি। জানা যায়, তাঁর জীবনযুদ্ধে ঠিকে থাকার গল্প।

বৃদ্ধা রমি দাশের এক ছেলে ও এক মেয়ে ৷ স্বামী বেশ কয়েক বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। থাকেন ষোলশহর রেলস্টেশন সংলগ্ন এক বস্তিতে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন সীতাকুন্ডে, এক দিনমজুরের সাথে। আর একমাত্র যুবক ছেলেটি বছর খানেক আগে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৷ এরপর উনি হয়ে যান সম্পূর্ণ নিঃস্ব এবং একা ৷ একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর মাথায় আকাশ ভেঙে পরে তাঁর। অনাহারে-অর্ধাহারে-চরম কস্টে দিনাতিপাত করেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, কোথাও মাথা গুজার ঠাঁই হয়নি তাঁর।

জীবনযুদ্ধে ঠিকে থাকার লড়াইয়ে বেছে নেন কলা ও পান বিক্রির কাজ। ঠিকানা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গেইট। সম্প্রতি করোনাকালীন মহামারীতে চরম সংকটে পড়েন তিন। বাসা ভাড়া বাবদ মাসিক ৩০০০/- (তিন হাজার) টাকা জোগাড় করা বৃদ্ধা রমি দাশের পক্ষ্যে দুঃসাধ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কারণ হাসপাতালের গেইটে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কলা আর পান বিক্রি করে তাঁর বড় জোড় রোজগার হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। তাঁর ক্ষুদ্র এই আয়ে বাসা ভাড়াতো দূরে থাক, খাবারের টাকাটাও ঠিকমত হয় না।

গত মাসের বাসা ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে বৃদ্ধা রমি দাশকে যখন বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য আল্টিমেটাম দেন, তখন হতাশা আর চোখের জল ফেলা ছাড়া বৃদ্ধা রমি দাশের কিছুই করার ছিল না। এই ভেবে হাসপাতালের গেইটে বসে তিনি কলা ও পান বিক্রি করছিলেন আর তাঁর দু'চোখ বেয়ে পড়ছিল অশ্রু।

বিষয়টি নজর এড়ায়নি সিএমপি মানবিক পুলিশ ইউনিটের সদস্য শওকত হোসেনের। তিনি হাসপাতালে বেওয়ারিশ রোগীর ড্রেসিং শেষ করে ফিরছিলেন। বৃদ্ধা রমি দাশের জীবনযুদ্ধের কাহিনী শুনে শওকত হোসেন তাঁর ঈদ বোনাসেন টাকা হতে মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপির পক্ষ থেকে অসহায় বৃদ্ধা রমি দাশের হাতে তুলে দেন নগদ ৩০০০/-( তিন হাজার) টাকা, যাতে বৃদ্ধা রমি দাশকে বাসা ছাড়তে না হয়। এছাড়া ও বৃদ্ধা রমি দাশের পাশে দাঁড়ান চট্টগ্রামের তরুন সমাজকর্মী, সনাতন টিভির পরিচালক জুয়েল আইচ অর্ক। 

আরো দেখুন

আরও সংবাদ