মোট দেখেছে : 199
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

১২ দফা দাবিতে চট্টগ্রামের পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ট্টগ্রাম উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যেগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পূজার সময় ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, সীতাকুণ্ডকে জাতীয় তীর্থস্থান ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জাতীয় মন্দির ঘোষণা, পূজা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ রাখাসহ ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান।


চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।


এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব বিশ্ব মহামারির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় ভিন্নভাবে পালন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থব্যয় কমিয়ে গরিব, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে প্রবেশের সময় দর্শনার্থীদের অবশ্যই মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। নিজস্ব অর্থায়নে প্রত্যেক পূজা মণ্ডপে বৈদ্যুতিক জেনারেটর, সিসি ক্যামরা ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে।’ দর্শনার্থীদের পূজা মণ্ডপে অযথা ঘোরাঘুরি ও দীর্ঘক্ষণ অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাত ৯টার মধ্য সন্ধ্যা আরতি বন্ধ করে রাত ১০টার মধ্যে পূজা মণ্ডলের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।’


লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ আরও বলেন, ‘এ বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বাহিনীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূজা চলাকালীন মণ্ডপে স্থায়ীভাবে পুলিশের পাহারা না থাকায় অসন্তোষ ও আতঙ্কবোধ করছি। উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ মনে করে, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এখনও গোপনে তাদের নাশকতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা বিষদাঁত বের করে দিবে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারকে তাদের সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’


লিখিত বক্তব্যে সরকার ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ২৭টি বিধি নিষেধকে শতভাগ পালনসহ ১২টি দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে পূজার সময় ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা, সীতাকুণ্ডকে জাতীয় তীর্থস্থান ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জাতীয় মন্দির ঘোষণা, পূজা চলাকালীন মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ, সকল ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষা বন্ধ রাখা, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে সকল সম্প্রদায়ের লোককে সংহারে ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদান এবং জাতীয়ভাবে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা ইত্যাদি।


সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার তালুকদার, উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নটু কুমার ঘোষ, দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরিমল দেব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শংকর প্রসাদ দে, সাবেক সভাপতি অমৃত লাল দে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চৌধুরী, সহ-সভাপতি সমীর পাল, গনপতি ভৌমিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ত্রিদীপ সাহা, রুপক কান্তি দেব, লিপটন দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক অন্যজন দে, সহ অর্থ সম্পাদক লিংকন তালুকদার, সাংবাদিক সুমন দাশ, সনজিত নাথ, সত্যজিৎ দাশ, বিকাশ নাথ প্রমূখ।


সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সভাপতি নটু কুমার ঘোষ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ