মোট দেখেছে : 149
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

যাত্রামোহনের বাড়ি দখলে বাধা : রানা দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ ফরিদ চৌধুরীর পরিবারের

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লাস্থ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙতে গিয়ে আলোচনায় আসা এম ফরিদ চৌধুরীর পরিবার দাবি করেছে, আদালতের আদেশ নিয়েই তারা ওই বাড়ির ‘দখল’ নিতে গিয়েছিলেন।বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ফরিদের বড় ছেলে ফরহাদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করেছেন আইনজীবী রানা দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে, যার নেতৃত্বে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে গত সোমবার ঐতিহাসিব বাড়িটি রক্ষা পায়।

ফরহাদ চৌধুরী বলেন, “উনি (রানা দাশগুপ্ত) শ্রদ্ধেয় হলেও অনেক বিষয়ে বিতর্কিত। ওই বাড়ি দখলে বাধা দিয়ে উনার কী লাভ? ব্যক্তিস্বার্থে উনি এসব কাজ করছেন।’’

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ দাবি করেন, ওই জায়গা তারা কিনে নিয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে দখলে গেছেন। তারা ‘দখলদার বা ভূমিদস্যু নন’।

জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নিয়ে নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার ওই ভবনে এখন শিশুবাগ স্কুলের কার্যক্রম চলছে। আদালতের আদেশের কথা বলে গত সোমবার এম ফরিদ চৌধুরী বুলডোজার নিয়ে সদলবলে গিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলতে উদ্যত হন।

ঐতিহ্যবাহী ভবনটির সামনের কিছু অংশ বুলডোজার দিয়ে ভেঙেও ফেলেন তারা। এ ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। তার নেতৃত্বে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেদিন বাড়িটি ভাঙার কাজ বন্ধ হয়।

এরপর জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ বুধবার যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ির দখল ও অবস্থানের উপর স্থিতাবস্থা জারি করে।

সেই সঙ্গে ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণ করার ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ওই স্থাপনাকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দেয় আদালত।  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তি এবং এর কাস্টডিয়ান হিসেবে তারা বিষয়টি জানত না।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও ঐতিহ্যবাহী ভবনটি রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।

কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন ও আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনকে স্মারকলিপি দিয়ে ঐতিহাসিক ভবনটি রক্ষা করে সেখানে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসে ফরিদ চৌধুরীর পরিবার। শুরুতে তাদের পক্ষে আইনজীবী আরেফিন আলী দেন।

তিনি দাবি করেন, রহমতগঞ্জ এলাকার জায়গাটি মিলন কান্তি সেনগুপ্তের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন ফরিদ চৌধুরী। কিন্তু ‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল’ তার মক্কেলকে ‘হেয় প্রতিপন্ন করার’ চেষ্টা করছে।

“তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।”

ফরিদ চৌধুরীর বড় ছেলে ফরহাদ বলেন, “আমরা কোনো জায়গা দখল করিনি, আমরা ভূমিদস্যু নই। যাত্রামোহন সেনগুপ্তের পরিবারের একমাত্র ওয়ারিশ মিলন কান্তি সেনগুপ্ত। আমরা তার কাছ থেকে এসব জমি শুরুতে বায়নানামা করে ক্রয় করি। পরে মামলা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আমাদের পক্ষে ডিক্রি দেয়।”

যাত্রামোহন সেনগুপ্তকে ‘শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে ফরহাদ বলেন, “তিনি বাংলার জন্য অনেক করেছেন। রহমতগঞ্জ এলাকার আশেপাশে উনাদের অনেক সম্পত্তি ছিল। ওই জায়গাটি যদি ঐতিহাসিক হয়, তাহলে আশেপাশের ফ্ল্যাট বাড়ি কেমনে হল, তখন তো প্রতিবাদ হয় নাই। আমরা ওই জায়গার জন্য ১৫ বছর ধরে আদালতে লড়েছি।”

রানা দাশগুপ্তকে উদ্দেশ করে ফরহাদ চৌধুরী বলেন, “ওই স্থানে রাজাকারপুত্র শিশুবাগ স্কুল পরিচালনা করছেন। তখন উনি কোথায় ছিলেন। একতরফা ডিক্রি নিয়েছি কীভাবে বলেন?  আমি, আমার পরিবার, আমার বংশ কখনো জায়গা দখল করিনি। জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত।

আমি ওই ভবন বুলডোজার দিয়ে কেন উড়িয়ে দিতে যাব? আদালতের নির্দেশে প্রশাসন করেছে। রানা দাশগুপ্ত কেন লুঙ্গি পড়ে ওইখানে আসলেন?”

উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা জারির পরও ওই জায়গায় তাদের লোক কেন আছে জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, “আদালতের আদেশে আমরা জায়গা পেয়েছি। আমরা ওই স্থানে থাকব। সরকার যদি মনে করে তাদের প্রয়োজনে লাগবে, তখন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।”

ফরিদ চৌধুরী, তার মেয়ে ফারহানা চৌধুরী, তানজিনা চৌধুরী, মেয়ে জামাই গিয়াস উদ্দিন সুজন এবং রহমতগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা বলরাম চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।



সূত্র: বিডিনিউজ২৪

আরো দেখুন

আরও সংবাদ