মোট দেখেছে : 1,209
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী সাজাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার পুলিশ !

ইউপি সদস্যের ইন্ধনে এক কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী সাজাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে পুলিশের তিন সদস্য ও এক র্সোস। নাটোর সদর উপজলোর ছাতনী ইউনিয়নে ৫ নং ওর্য়াড শিবপুর গ্রামে রবিবার রাত আড়াইটায়  কৃষক আ্ইয়ুব আলীর বাড়িতে মাদক তল্লাশীর নামে তাণ্ডব চালায় সদর থানার এএসআই আবুল কালামসহ পুলিশের তিন সদস্য। ভুক্তভোগী আইয়ুবের চিৎকারে পুলিশের সঙ্গে থাকা চার সোর্স পালাতে সক্ষম হলেও এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে গণপিটুনী দেয়।

ভুক্তভোগী আইয়ুবের অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আলীর ইন্ধনে পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে এ তাণ্ডব চালায়। ঘটনার সময় পুলিশের সঙ্গে থাকা চার সোর্স গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তবে ওই চার ব্যক্তিকে চেনে না পুলিশ।

ইউপি সদস্যরে কথা শুনে কৃষককে নাজহোল করার ঘটনায় ইতোমধ্যে এএসআই কালামকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করছেনে নাটোরের পুলিশ  সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য এমরান আলীকে থানায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার পরই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃৃবৃন্দ ও ইউপি চেয়াররম্যান তোফাজ্জল হোসনে সরকারের চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ পিটুনীর  শিকার হয়েছে জেনে  ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ কাজী জালাল উদ্দীন আহমেদ। 

ভুক্তভোগী কৃষক আইয়ুব আলী জানান, তিনি ঢাকায় কোরবানীর হাটে তিনটি গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এনে রেখেছিলেন বাড়িতে। রবিবার রাত আড়াইটায় তার বাড়ির গেট ধাক্কাতে থাকে কয়েকজন ব্যক্তি। ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলে জানায় তারা পুলিশ। এই কথোপকথনের মধ্যেই বাড়ির দেওয়াল টপকে ঢুকে পড়ে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি। দরজা খুলতেই দেখা  যায়, নাটোর সদর থানা পুলিশের এএসআই আবুল কালাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। 

তারা দাবি করে, বাড়িতে ইয়াবা রাখা আছে। এ সময় কৃষক আইয়ুব, তার স্ত্রী, ছোট মেয়ে ও ছেলে ছিলেন বাড়িতে। স্ত্রী ও মেয়েসহ আইয়ুবকে একটি ঘরে রেখে আইয়ুবের ছেলে মাসুদ রানাকে পেটাতে শুরু করে এএসআই কালাম। ‘বাবা (ইয়াবা) কই’ বলে মারতে মারতে মাসুদকে বাড়ির দরজার সামনে আনে কালাম। এরই ফাকে আইয়ুব আলীর ঘরে ঢুকে আলমারীর ভেতরে থাকা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয় পুলিশের তিন সোর্স। এসময় মাসুদকে মারতে মারতে বাড়ির বাইরে আনার সময় তার চিৎকারে জড়ো হয় এলাকাবাসী। তাদের  প্রতিবাদের মুখে মাসুদকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে পুরো ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে পুলিশ ও অজ্ঞাত একজনকে ধরে পিটুনি দিয়ে আটকে রাখে।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানার ওসি কাজী জালাল উদ্দীন  আহমদে বলেন, ‘এ ঘটনায় ব্রিবত পুলিশ। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী থানায় কোনো অভিযোগ করনেনি।’ ইউপি সদস্য এমরান আলীকে থানায় এনে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি বলনে, ‘বিষয়টি মিউচুয়াল হয়েছে’।

নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ইতোমধ্যে এএসআই কালামকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। কার কতুটুকু অপরাধ, সে আনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইউপি সদস্য এমরানকে থানা থেকে ছাড়াতে আসা ছাতনী ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসনে সরকার বলেন, ‘আমার পরিষদের সদস্য এমরানকে পুলিশ থানায় নিয়ে এসেছে জেনে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। বিষয়টি আগামীকাল সোমবার স্থানীয়ভাবে মমিাংসা করা হবে।’

থানা থেকে বেরিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এমরান আলী বলেন, ‘বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি। পুলিশ গতরাতে ওয়ারন্টেভুক্ত আসামি ধরতে ছাতনীতে গিয়েছিল। আইয়ুবের ছেলে মাসুদ ই্ভটিজার। তাকে সর্তক করার জন্য পুলিশকে বলেছিলাম। তাই ওই রাতে পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশ তাদের মারপটি করছে কি না আমার জানা নাই।

তবে কেন  তাকে পুলিশ  থানায় নিয়ে গিয়েছিল জানতে চাইলে এমরান বলনে, ‘পুরো বিষয়টি আমার ওয়ার্ড এ , তাই। বিষয়টি অন্যভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সোমবার সালিশে সব ঠিক করে দেওয়া হবে।

(সৃষ্টি ডেস্ক/নি/২৪)


আরো দেখুন

আরও সংবাদ