মোট দেখেছে : 828
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

দেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

 
বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত এ সংগঠনের মুলনীতি,জাতির প্রতি কমিটমেন্ট, জনগনের প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহন, দাবী আদায়, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষহীনতা সংগঠনকে বাংলার জনগনের মনের মনিকৌটায় স্থান করে দিয়েছে।বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে শত শত কালজয়ী, ইতিহাস সৃষ্টিকারী নেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে ওঠে এসেছেন।ভাষা আন্দোলন,সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলন,যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন,শিক্ষা আন্দোলন,ছয়দফা এগার দফা আন্দোলন,গন অভ্যুত্থান,মুক্তিযুদ্ধ,স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সবকিছুতেই ছাত্রলীগের অগ্রবর্তী ভুমিকা।ছাত্রলীগ ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন আন্দোলন কিংবা ভাল কিছু সৃষ্টি হয়নি।ছাত্র জীবনের বিরাট অংশ এ মহীরুহ সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম বলে এখনো গর্ববোধ করতে পারি রাজনীতি কিংবা সামাজিক অঙ্গনে। স্বাধীন বাংলাদেশের রুপরেখা,জাতীয় পতাকা,জাতীয় সংগীত নির্বাচন, মুজিব বাহিনী,নিউক্লিয়াস সবকিছুর স্রষ্টা ছাত্রলীগ। জন্মলগ্ন থেকে মেধাবী,চৌকষ,দেশপ্রেমিক ছাত্ররাই এ সংগঠন করেছে।অছাত্র কুছাত্র, ব্যাকবেন্চার কখনো এ সংগঠন করার সাহস করেনি।বাংলার মুক্তিকামী জনতার অহংকারের মধ্যমনি ছিল ছাত্রলীগ।ইহুদীরা যেমন ছদ্মবেশে বিভিন্ন আসমানী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঢুকে ধর্মের মৌলিকত্ব নষ্ট করেছে করছে, তেমনি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের মধ্যেও উন্নয়নবিরোধী,দেশদ্রোহী, স্বাধীনতাবিরোধীরা অনুপ্রবেশ করে ধর্মনিরপেক্ষ গনমুখী,রাজনীতির এ মাদার সংগঠনকে নীতিভ্রষ্ট কলুষিত করে ধ্বংস করে চলেছে প্রতিনিয়ত।রাজনৈতিক নেতা তৈরীর এ কারখানা এখন দুষ্টশ্রমিকে ভরে গেছে। এ কারখানা তার উৎপাদিত নষ্ট পন্যের কারনে কয়েকবার লে- অপের সম্মুখীন হয়েছে। ঘোষনা দিয়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে তার কার্যক্রম। যে সংগঠনের মুলনীতি শিক্ষা,শান্তি,প্রগতি সে সংগঠনের নেতা কর্মীদের বিরোদ্ধে যখন অভিযোগ ওঠে শিক্ষা বিমুখতার,শান্তি বিনষ্টের কিংবা পশ্চাদ মুখীতার,স্থবিরতার তখন নিরব মনোকষ্ট বিস্তার লাভ করে।মাঝে মাঝে তাদের অনেক ভাল কাজ দেখে এখনো যেমন অানন্দে উদ্বেলিত হই, তেমনি গড্ডালিকা প্রবাহে তাদের গা ভাসানো দেখলে যারপরনাই হতাশার বিষাদে আক্রান্ত হই। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা।বঙ্গবন্ধু যেটা বলতেন ছাত্রলীগ তা বাস্তবে পরিনত না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরতেন না।ছাত্রলীগ কখনো কোন নেতার লেজুড়বৃত্তি করেনি।ছাত্রলীগকে অনৈতিক কিংবা ব্যক্তি স্বার্থের পক্ষে কেউ ব্যবহার করতে সাহস করেনি।বরং ছাত্রলীগের ন্যায্য দাবীর পক্ষে রাজনৈতিক দল বা নেতারা একাত্মতা ঘোষনা করতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩১ আগষ্ট ছাত্রলীগের মহাসমাবেশ ও সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রৌ শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছিলেন   স্বাধীনতা শত্রুরা আর কোনদিন বাংলার ক্ষমতা দখল করতে পারবেনা.। বাংলাদেশকে স্বনির্ভর, উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিনত করা হবে। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর জন্ম, তোমাদেরকে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান করতে হবে তাঁর আদর্শ বুকে ধারন করার মধ্য দিয়ে। "কিন্তু দুর্ভাগ্য,সেদিনের সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত ছাত্রলীগ কিংবা সদ্যবিদায়ী কমিটির ছাত্রলীগ নেতারা বঙ্গবন্ধু-কন্যার বাণীর মর্মার্থ অনুধাবনে এবং ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ধারন কিংবা মুলনীতি লালনে সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা উপলদ্ধি করেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানের ভবিষ্যত টেকনিশিয়ানরা হচ্ছে আজকের ছাত্রলীগ।তাই তিনি নিজ হাতেই এবারের ছাত্রলীগ নেতৃত্ব বাছাই করেছেন। অর্থের কিংবা লবির বিনিময়ে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব সৃষ্টির অশুভ তৎপরতা তিনি বন্ধ করে জাতির ভবিষ্যত কান্ডারীদের চরিত্রের সুরক্ষা দিয়েছেন। মাননীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা কি তা বুঝতে পারছেন? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ,রাজনীতির লক্ষ্য,ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্ট,সেক্যুলারিজম,বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, শোষনমুক্ত গনসম্পৃক্ত অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দীক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে স্টাডি করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো? আপনাদের উপরেই নির্ভর করবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কিংবা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বনির্ভর উন্নত ডিজিটাল বাংলা বিনির্মানের স্বপ্ন। নীতির পুজা বাদ দিয়ে যারা ভাইয়ের পুজা নেতার পুজায় ব্যস্ত, চরিত্র গঠনের চেয়ে চরিত্র বিসর্জনে যারা মত্ত,চাঁদাবাজি,ধান্ধাবাজি,ঠিকাদারী,দখলবাজিতে যারা নিয়োজিত, মাঠে ময়দানে কোন কাজ না করে সর্বক্ষন নেতার ড্রয়িংরুমে হাজিরা দিতে যারা অভ্যস্ত, সর্বোপরি বডিশো,ফেইস শো এর নায়করা তাদের দ্বারা অন্তত আর যাই হোক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কিংবা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ হবেনা। এর জন্য প্রয়োজন সুশিক্ষিত,প্রশিক্ষিত, নিবেদিতপ্রান,জাতির প্রতি কমিটেড, সেক্যুলার কর্মীবাহিনী।জননেত্রী শেখ হাসিনার বাছাই করা বর্তমান ছাত্রলীগ নেতৃত্বের প্রতি আমাদের অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাসের মর্যাদার প্রতিফলন দেখতে চাই। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক,সাংগঠনিক সম্পাদক মহোদয় গন এ ব্যাপারে আপনাদের সুদৃষ্টি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান জেলা উপজেলাসহ সকল স্তরের নেতৃত্বের কার্যকর কর্মতৎপরতা আশা করছি এ ব্যাপারে।

লেখক এ্যাডভোকেট শফিউল আজম।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ