মোট দেখেছে : 446
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

শিক্ষক বিধান বাবুদের স্বপ্নগুলো কি কোনোদিনই পূরন হবার নয় ?

লেখক- রাজীব কুমার দাশ

ইন্সপেক্টর,বাংলাদেশ পুলিশ ।


বিধান বাবুদের স্বপ্নগুলো ফিকে হয়ে যায়,কোনোদিনই পূরন হবার নয়। স্কুল কমিটি, পরীক্ষক,প্রধান শিক্ষকের প্রতি ধাপগুলো পেরিয়ে একবুক সোনালীদিনের আশায় শিক্ষকতার মহান পেশায় বিধান বাবুদের শুরু

একটাই শুধু স্বপ্ন,বিদ্যালয় জাতীয়করণ কিংবা এমপিও ভুক্তির আশা। আশার ঘানি টানতে টানতে একসময় জীবনের কালবেলা শুরু।বউ বাচ্চা,মা,বাবা আত্নীয় স্বজনদের দৈনন্দিন চাহিদাপুরনে হতাশার শুরু।

মধ্যবিত্তদের কি যাতনা,একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানে!!না পারে বলতে না পারে সইতে।সরকারী অন্য চাকরীর বয়স তো কবেই শেষ !

হতাশার চরম প্রহর শুরু। শুভাকাংখি,আত্নীয়স্বজন, স্ত্রী, সন্তান,পিতা মাতার কাংখিত প্রত্যাশার মাত্রা শূন্যের কোটায় !

ধার দেনার  টানাটানিতে প্রান ওষ্ঠাগত,মাস শেষে মুদি দোকানির দরের চক্রবৃদ্ধির চোখরাঙানি,টিপ্পনি,টেনে পুনে মাস পার !

স্ত্রী, সন্তান পিতা মাতার নিত্য প্রয়োজনীয় আবদার ও এক সময়ে আর বিধান বাবুরা হাজারো চেষ্টায় পুরণ করতে পারেনা।ধার, দেনার যাঁতাকল আর পার হয়ে ওঠেনা !

অনিন্দ্রা,টেনশনে জীবনমানের সূচক ক্রমশ:নিম্নমুখী।

এরি মধ্যে ডায়াবেটিস কিংবা হাইপারটেনশন, কিংবা হাইপ্রেশার!! তবু ও বোর্ড কর্তা,মন্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের ম্রিয়মান আশ্বাস হবে ।

পরিবার পরিজন,মুদি দোকানি,প্রতিবেশীরা বিধান বাবুদের আশার ফুলঝুঁড়িতে আর বিশ্বাস করেনা।সবাই বিধান বাবুদের দোষ খুঁজে বেড়ায়।

বিধান বাবু অযোগ্য ছিলো,কিংবা অন্য কোনো সমষ্যা আছে।একটা সময়ে বিধানবাবুদের আশার বাতিগুলো ক্রমশ:নিভতে শুরু করে।

যে কর্তারা বিধান বাবুদের কে আশার বাতি জ্বালিয়েছিল,তারাই একদিন বাতি নিভিয়ে দেয় !

কর্তাদের বা কি দোষ ? তারা তো বাকি মুদি দোকানির বকাঝকা,টিপ্পনি খাননি!!তাদের বাবুরা তো পচা বাবা বলেনা!তাদের স্ত্রী তো হতাশায় স্বামী নামের কলংক বলেনা!!বাবা মা খাবার ঔষধের জন্যে কান্না করেনা !

ক্ষুধার জ্বালা কি? তা সমাজের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বিধান বাবুরা ভালো জানে !

অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আশার শেষ বাতিটা যখন নিভলো,চারিদিকে শুধু অন্ধকার!

পাওনাদারদের তর্জন,গর্জন পরিবার পরিজনদের হতাশা,ছোট ছেলে মেয়েদের কান্না,শত্রুদের বিদ্রুুবের টিপ্পনি,হাসি আরো কত কি?

বিধান বাবুরা সত্যই ধরে নেয়,সে সবার কাছে অযোগ্য অপদার্থ ! না হলে সবারটা হলে তারটা হলো না কেনো? জীবন প্রশ্নের কোনো উত্তর পায়না!

চারিদিকে শুধু হতাশার চিৎকার! আমি অপদার্থ! আমার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই?

বিধান বাবুরা সমাজের কাছে রাষ্ট্রের কাছে কিছু প্রশ্ন রেখে একদিন হতাশার নীল কষ্টে পত্রিকার ছাপা হয়ে একদিন পৃথিবী নামক গ্রহ হতে মানুষ যেন না হতে হয়? আকুলতায় হারিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) থেকে নিজের নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভে ও দুঃখে বিষ খেয়ে আত্মহনন করে নীরব প্রতিবাদ জানিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সেনেরগাঁতি মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার

শিক্ষক বিধান চন্দ্র ঘোষ (৪৫)।মঙ্গলবার রাতে তিনি বিষপান করেন এবং গত বুধবার সকালে তিনি মারা যান।   সূত্র: সময়ের কন্ঠস্বর । 

আরো দেখুন

আরও সংবাদ