মোট দেখেছে : 201
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

মহা শিবরাত্রি আজ

আজ মহাশিবরাত্রি পূজা। হিন্দুধর্মালম্বীদের কাছে বিশেষ এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশী তিথিতে শিবরাত্রি ব্রত পালন করা হয়। গৃহীরা যেমন শিবের পূজা করেন তেমনি সন্ন্যাসীদের কাছেও শিবরাত্রি একটি মহোৎসব।

বাংলাদেশে করোনার কারণে সকল স্কুল-কলেজ বন্ধ। তবে অনলাইনে জুমের মাধ্যমে পাঠদান হয়। শিবরাত্রি উপলক্ষে তাও বন্ধ আছে আজ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে মেলা বসে। সারা রাত ধরে চলে এই মেলা।

এদিকে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঐতিহ্যবাহী মেলা শুরু হচ্ছে। দেশ বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষের আগমন হয় বলে এই মেলা মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলা উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের আগমনের সুবিধার্থে তূর্ণা নিশিতা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতীসহ অন্যান্য আন্তনগর ট্রেণসমূহের যাত্রার ক্ষেত্রে সীতাকুণ্ডে তিন মিনিট যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড বটতলী কালী মন্দির থেকে ইকো পার্ক হয়ে চন্দ্রনাথ মন্দির, বাড়কুণ্ড ও লবণাক্ষে যাতায়াতের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শুরু হয় দ্বাদশী তিথি ও এরপরে কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি। ত্রয়োদশী থাকবে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৩৮ পর্যন্ত। এরপর থেকে চতুর্দশী তিথি। বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৩৯ মিনিটের পর থেকে শিবরাত্রি তিথি শুরু। এই তিথি শেষ হবে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা ২ মিনিটে।


পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে পার্বতী একবার শিবের কাছে জানতে চান কোন ব্রত পালনে শিব সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন। তার উত্তরে শিব ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণচতুর্দশী তিথির উল্লেখ করেন।

ভবিষ্য পুরাণ থেকে জানা যায়, একসময় বারাণসীতে এক ব্যাধ ছিলেন। পশুপাখি বধ করে তার জীবিকা নির্বাহ হত। একদিন শিকার করতে করতে জঙ্গলের মধ্যেই অন্ধকার নেমে আসে। ঘন অন্ধকারে মনের মধ্যে ভয় পেয়ে এক বেল গাছের ওপরে সে আশ্রয় নেয়। সেদিন ছিল ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণচতুর্দশী তিথি। এদিকে ভোরবেলা শিকারে বেরিয়ে কিছুই খাওয়া হয়নি ব্যাধের। রাতে গাছের উপর শুয়ে যখন সে নড়াচড়া করছে তখন গাছ থেকে কিছু বেল পাতা এবং তার শরীরের ঘাম ঝরে পড়ে ওই গাছেরই নিচে থাকা শিবলিঙ্গের ওপর। এভাবে অজান্তেই সে শিবকে তুষ্ট করে সিদ্ধিলাভ করে। এদিকে রাত কেটে ভোর হয়। বাড়িতে ফিরে সে পরিবারের লোকেদের আশ্বস্ত করে। বাড়িতে এসে খেতে যাবে এমন সময় এক অতিথি দ্বারে এসে ভিক্ষা চাইলে সে তার নিজের খাবার সেদিন দিয়ে দেয়। এতে তাঁর পারণের ফল লাভ হয়। এর কিছুদিনের মধ্যে ব্যাধের মৃত্যু হলে যমদূতেরা তাকে নিতে এসে দেখে আগে থেকেই সেখানে শিব দূতেরা দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু মৃত্যুর পর সবাইকেই যমালয়ে যেতে হয়। এর অন্যথা হবে না। তাই যমদূতরা ফিরে গিয়ে যমরাজকে নালিশ জানায়। এবার স্বয়ং যমরাজ এসে উপস্থিত হন। তিনি এসে দেখেন স্বয়ং শিবের অনুচর নন্দী সেখানে উপস্থিত। নন্দীর মুখে ব্যাধের শিব পুজোর কথা শুনে ফিরে যান যমরাজ। আর ব্যাধের স্থান হয় শিবলোকে। সেই থেকে শিবরাত্রি এবং শিব পুজোর মহিমা যুগে যুগে ছড়িয়ে পড়ে।

আরো দেখুন

আরও সংবাদ